৭৫ হাজার টাকার নিচে এন্ড্রয়েড ফোন নাই বললেন মন্ত্রীপরিষদ সচিব
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সচিব ও ভারপ্রাপ্ত সচিবরা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন কেনার জন্য ৭৫ হাজার টাকা করে পাবেন। এসব ফোনে যে বিল আসবে তা দেওয়া হবে সরকারি কোষাগার থেকেই।
এমন একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভায় নিয়মিত বৈঠকে প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
একজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সচিব বা ভারপ্রাপ্ত সচিব মোবাইল বিল বাবদ কত টাকা পাবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ‘নীতিমালায় এ বিষয়ে কিছু বলা নেই। তবে তাঁদের মোবাইল বিল সরকারি তহবিল থেকেই পরিশোধ করা হবে। তাঁরা যে পরিমাণ খরচ করবেন তা সরকারই বহন করবে।’
বৈঠক নিয়ে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।
সচিব জানান, তবে যুগ্ম সচিব পদ মর্যাদার কর্মকর্তারা মোবাইল বিল বাবদ মাসে এক হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন। যুগ্ম সচিব আগে পেতেন ৬০০ টাকা করে।
শফিউল আলম জানান, সরকারি টেলিফোন, সেলুলার, ফ্যাক্স ও ইন্টারনেট নীতিমালা-২০১৮ অনুমোদন দেওয়া হয়। এটি প্রস্তাব আকারে পেশ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সচিব বলেন, মোবাইল ফোনের বিল সরকার বহন করবে।
সচিব আরো বলেন, ২০০৪ সালে এ নীতিমালা প্রথম করা হয়। ওই সময় মন্ত্রী-সচিবরা মোবাইল ফোনের জন্য পেতেন ১৫ হাজার টাকা করে।
একটি মোবইল সেট কিনতে ৭৫ হাজার টাকা করে কেন দেওয়া হচ্ছে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘বর্তমানে মানুষের জীবন মানের অনেক উন্নতি হয়েছে। তা ছাড়া একটি ভালো মানের অ্যান্ড্রয়েড সেট কিনতে গেলে এ পরিমাণ টাকাই লাগবে বলে মন্ত্রিসভা মনে করেছে।’
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদেরও এ নীতিমালার আওতায় আনা বিষয়ে মন্ত্রিসভা নির্দেশনা দিয়েছে। তাঁরাও তাঁদের প্রশাসনিক সুবিধা অনুযায়ী এ নীতিমালার আওতায় এসে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেট কিনতে পারবেন।
সামরিক কর্মকর্তারা এ নীতিমালার আওতায় আসবে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘সামরিক কর্মকর্তারা পৃথক বিধি দ্বারা পরিচালিত হন। তবে এ নীতিমালার আলোকে তাঁরাও সুবিধা পাবেন।’
নীতিমালায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রটোকল কর্মকর্তাকে রোমিং সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে তাঁকে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কথা বলতে হয়। এ কারণেই তাঁকে এ সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে জানান সচিব।
এ ছাড়া আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে হাউজ অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৮-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।