৩১ জুলাই, ঢাবি অপারজেয় বাংলায় মানববন্ধন ও সমাবেশের ডাক দিয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা
কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ;
৩১ই জুলাই (মঙ্গলবার),
সকাল ১১ টা, অপারাজেয় বাংলা, ঢাবি।
প্রিয় শিক্ষার্থী ভাই ও বোনেরা,
আসসালামুঅলাইকুম,
আপনারা সকলে জানেন যে "বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ" ১৭ ই ফেব্রুয়ারি থেকে সরকারি,অাধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক কোটার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে অহিংস ও শান্তিপূর্নভাবে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে আসছে।
গত ৮ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ন কর্মসূচীর উপর পুলিশ এবং সন্ত্রাসীদের অতর্কিত আক্রমনের ফলে সারা দেশে দুর্বার ছাত্রআন্দোলন গড়ে ওঠে।যার পরিপ্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১১ ই এপ্রিল মহান জাতীয় সংসদে "কোটা বাতিল" ঘোষণা করেন। এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দলের সাথে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের ১ম ২ দফা আলোচনায় ৭ ই মে এর মধ্য কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু ৭ মে এর মধ্যে কোন প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে পাঠানো বিশেষ প্রতিনিধিরাও ১৪ ই মে আন্দোলনকারী প্রতিনিধি দলের সাথে আলোচনা করে ৭/১০ দিনের প্রজ্ঞাপন দেওয়ার আশ্বাস দেয়। কিন্তু সে কথা ও রাখা হয়নি। অর্থাৎ সরকারের আশ্বাসে ৩ বার আন্দোলন স্থগিত করে দীর্ঘ ৫ মাসেও আমাদের দাবি বাস্তবায়ন করা হয়নি। বরং আন্দোলন বন্ধ করতে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনকারীদের হুমকি দেওয়া ও হামলা করা হয়েছে।
আপনার নিশ্চয়ই অবগত অাছেন যে আমরা কখনোই কোটা বাতিল চাইনি। আমরা ৫ দফার আলোকে কোটার যৌক্তিক সংস্কার চেয়েছি। যেটা দেশের ছাত্র-শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, সুশীল সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
কিন্তু তারপরও ছাত্রসমাজের যৌক্তিক এ দাবিকে না মেনে সন্ত্রাসীদের দিয়ে বার বার ছাত্র-শিক্ষকদের উপর হামলা করা হয়েছে এবং ভয়-ভীতি দেখিয়ে আন্দোলনকে বন্ধ করার হীন অপচেষ্টা হিসেবে আন্দোলনের নেতৃবৃন্দকে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অথচ ঢাকা,চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর এমনকি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মতো পবিত্র জায়গায়ও ছাত্রী,শিক্ষক লাঞ্ছনাকারী, ছাত্রদের উপর বর্বর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের পরিচয় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ ও গণমাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেলেও কোন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। যা সন্ত্রাসীদের হামলাসহ এ ধরনের অপকর্মের জন্য আরোও উৎসাহ দেওয়ার সামিল। ফলে ক্যাম্প্যাসের নিরাপদ পরিবেশ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উৎকন্ঠা রয়েছে।
আপনারা দেখেছেন ছাত্রসমাজের যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত একটি দাবি নিয়ে আন্দোলন করার কারণে কিভাবে সন্ত্রাসীদের দিয়ে নুর,তরিকুল,ফারুক,জসিমের উপর বর্বর হামলা চালানো হয়েছে এবং সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে রাশেদ,ফারুক,জসিম,মশিউরসহ আন্দোলনকারীদের জেলে নেওয়া হয়েছে।
আমরা ছাত্রসমাজের সাথে এই অন্যায়,বৈষম্য, নিপীড়ন কি মুখ বুজে সহ্য করবো???
নাকি যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায় সহযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করবো???
তাই আগামীকাল ৩১ই জুলাই (মঙ্গলবার)
★ আটককৃত আমাদের ভাইদের নিঃশর্ত মুক্তি ।
★ নিরাপদ ক্যাম্পাসের স্বার্থে হামলাকারীদের বিচার ।
★ এবং ৫ দফার আলোকে কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপনের দাবিতে সারা বাংলাদেশে একযোগে প্রত্যেকটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কালোব্যাজ ধারন করে সকাল ১১টায় বিক্ষোভ মিছিল।
ছাত্রসমাজের ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বৈষম্যহীন সোনার বাংলা গড়তে উক্ত কর্মসূচীতে অংশগ্রহনের জন্য সকল বিবেকবান ও ন্যায়পরায়ণ শিক্ষার্থীদের উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি।